আড়িয়াল বিলের দেশি মাছের মধ্যে মারাত্মক মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশি ৫টি প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কই মাছ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। গবেষক মো. শাহজাহান জানান, বর্ষা, শীত ও শুষ্ক মৌসুমে বিলের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫০টি মাছের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট প্লাস্টিকের কণা, যা সাধারণত প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিনের দীর্ঘমেয়াদী পচনের ফলে তৈরি হয়। এই কণাগুলো বৃষ্টির পানির মাধ্যমে নদী ও খালে প্রবাহিত হয় এবং মাছের শরীরে প্রবেশ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের মাংসপেশিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ছোট মাছ সাধারণত রান্নার সময় নাড়িভুঁড়ি ফেলে দেওয়া হয়, কিন্তু মাংসে প্লাস্টিকের উপস্থিতি উদ্বেগজনক।
গবেষকরা বলেন, মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার মানেই তাৎক্ষণিক অসুস্থতা নয়, তবে অতিসূক্ষ্ম ন্যানোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবাহিত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রতিবছর শত শত টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী ও বিলে ফেলছে মানুষ। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।