সরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারিভাবে পরিশোধিত তেল আমদানি ও বিপণনের নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। বসুন্ধরা গ্রুপের আবেদনের ভিত্তিতে জ্বালানি বিভাগ বিপিসির কাছে দুই কর্মদিবসের মধ্যে নীতিমালার খসড়া চেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্ষিক ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বাজার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যাপক পর্যালোচনার প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া এই পদক্ষেপ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দ্বারা পরিচালিত হয়। বর্তমানে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
গত ২ জুলাই জ্বালানি বিভাগ বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিপিসির মতামত চেয়েছিল। ৬ আগস্টে একটি নতুন চিঠিতে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিপিসিকে ৯ আগস্টের মধ্যে এই খসড়া জমা দিতে বলা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, "মার্কেট সাইজ ২০২৪-২৫ সালে ৩.৫ বিলিয়ন ছিল, যা বর্তমানে ৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এ ধরনের বড় বাজারকে বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে তা সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে।"
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের কৃষি উৎপাদন ও নিম্ন আয়ের মানুষের বিষয়টি মাথায় রেখে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারের উপর নির্ভর করা একটি চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, "প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো সমস্যা হলে দাম বেড়ে গেলে দরিদ্র মানুষকে কীভাবে স্বল্পমূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।"
দেশে বর্তমানে কিছু বেসরকারি রিফাইনারি স্থানীয় ও আমদানি করা কনডেনসেট থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করছে। তবে বড় আকারের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।