গত মৌসুমে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও উঠেছিল তারা। তবে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের কাছে হেরে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের স্বপ্ন শেষ হয়। শিরোপা জয়ের পর কোচ মিকেল আর্তেতা জানান, সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে দলকে আরও উচ্চতায় নিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই নিউক্যাসলের অধিনায়ক ব্রুনো গিমারায়েসকে দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে আর্সেনাল।
২৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার গিমারায়েসকে ঘিরে আর্সেনালের পরিকল্পনা শুধু স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ানো নয়; বরং বিশ্বসেরা মিডফিল্ডগুলোর একটি গড়ে তোলা। প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের চাপ সামলে পারফর্ম করার সক্ষমতার কারণে গিমারায়েস দীর্ঘদিন ধরেই আর্তেতার পছন্দের তালিকায় ছিলেন।
গত মৌসুমে খেলোয়াড়দের চোটের কারণে আর্সেনালকে বেশ ভুগতে হয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩টি ম্যাচ খেলেছে তারা, কিন্তু স্কোয়াডে পর্যাপ্ত বিকল্পের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে মিডফিল্ডে মার্টিন জুবিমেন্ডি ও ডেকলান রাইসের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছিল।
গিমারায়েসের আগমন আর্সেনালকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা দেবে। দলের মিডফিল্ডের মানে বড় কোনো পতন হবে না এবং আর্তেতার হাতে আরও বেশি কৌশলগত বিকল্প তৈরি হবে। বর্তমানে আর্সেনালের মিডফিল্ডে রাইস, জুবিমেন্ডি, অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডসহ অন্যান্য খেলোয়াড় রয়েছেন। গিমারায়েস যোগ দিলে অনুশীলনে জায়গা ধরে রাখার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।
গিমারায়েসের নেতৃত্বগুণও আর্সেনালের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নিউক্যাসেলে খেলার সময় তিনি দলের অন্যতম প্রিয় ও প্রভাবশালী খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন। চোটের দিক থেকেও গিমারায়েস আর্সেনালের জন্য তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য সংযোজন। ২০২২ সালে নিউক্যাসেলে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ১৬টি ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
গিমারায়েসের উপস্থিতি নিউক্যাসেলের ফলাফলেও বড় পার্থক্য তৈরি করেছে। তার না থাকলে নিউক্যাসলের প্রিমিয়ার লিগে জয়ের হার ছিল মাত্র ১২.৫ শতাংশ, কিন্তু তিনি খেললে জয়ের হার বেড়ে হয়েছে ৫০.৭ শতাংশ। আক্রমণেও গিমারায়েসের অবদান উল্লেখযোগ্য; গত মৌসুমে নিউক্যাসেলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে নয় গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে গিমারায়েসকে আর্সেনালের সম্ভাব্য সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে শুধুমাত্র মিডফিল্ডার হিসেবে নয়, বরং তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং চাপের মধ্যে খেলার দক্ষতা দলকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিরোপার জন্য লড়াইয়ের সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।