স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর ঢলের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে ইঙ্গিত করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের ভূমিকা থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেন-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই ঘটনা আরও শীতলতা নিয়ে এসেছে। সিউটায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশ নিয়ে সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে পৌঁছেছে।
সিউটা, যা মরক্কোর সীমান্তে অবস্থিত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলসীমান্ত। সাম্প্রতিক ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রপথে সাঁতরে এবং ছোট নৌকায় সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। স্পেন সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বেশিরভাগ অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
স্পেনের দাবি, মানবপাচারকারী চক্র আদালতের একটি রায়কে ভুলভাবে প্রচার করে অভিবাসীদের সীমান্তে জড়ো হতে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মরক্কো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে স্পেনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননের স্পেনবিরোধী মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পরিবহনমন্ত্রী পুয়েন্তে লেখেন, বিষয়টি পরিষ্কার হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, গাজা যুদ্ধ ও ইরান ইস্যুতে স্পেনের অবস্থানের কারণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটকে কাজে লাগাতে পারে।
মরক্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এত বড় পরিসরে অভিবাসীদের সীমান্ত পার হওয়া মরক্কোর সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।
যদিও মরক্কো সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে ধারাবাহিক কিছু কাকতালীয় ঘটনা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।