রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চিকিৎসায় বিদেশমুখী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা চোটের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, যা বিসিবির চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চিকিৎসায় বিদেশমুখী হওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। তবে, দলের দুই পেসার নাহিদ রানা এবং তাসকিন আহমেদ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে নয়, চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। তাদের হাতে রয়েছে পুরোনো চোটের রিপোর্ট।

নাহিদ রানা গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েছেন, কিন্তু তার আসল সমস্যা হলো ক্রনিক শিনবোনের পুরোনো সমস্যা। তাসকিন আহমেদের সমস্যা হলো পুরোনো গোড়ালির ব্যথা, যা তাকে নিয়মিত খেলতে বাধা দেয়। এছাড়াও, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও হাঁটুর পুরোনো চোট নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাচ্ছেন।

ক্রিকেটারদের বিদেশমুখী হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের ধারণা, বিসিবির অর্থের অভাব নেই, তবে আসল সমস্যাটি হলো সক্ষমতার অভাব। বাংলাদেশে স্পোর্টস মেডিসিনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে আলাদা আলাদা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। কিন্তু বিসিবিতে এই পর্যায়ের বিশেষায়িত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

বিসিবির মেডিকেল বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, তাদের নিজস্ব স্পোর্টস ল্যাব এবং আলাদা স্পোর্টস রেডিওলজিস্টের অভাব। ফলে, ক্রিকেটারদের সাধারণ হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে যেতে হয়, যেখানে তাদের চোটের সঠিক নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।

লিটন দাসের কাফ মাসলের চোটের উদাহরণ স্পষ্ট করে দেয় যে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত জ্ঞানের অভাবের কারণে ক্রিকেটারদের চোট নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিসিবির মেডিকেল বিভাগ দাবি করেছে যে, দেশে করা স্ক্যানেও চোট ধরা পড়েছিল, তবে রিপোর্টে সমস্যা ছিল টেকনিশিয়ানদের পজিশনিংয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, লিটনের চোট নির্ণয়ে দেরি হওয়ার কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে পড়েছেন।

এই পরিস্থিতি বিসিবির চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নতি করছে, কিন্তু ক্রিকেটারদের সুস্থ রাখার ব্যবস্থা কি একই গতিতে উন্নত হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন