বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাপানের কিউশুতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা সিয়াটলে খাদ্য উৎসবে গুলিতে তিনজন নিহত, আহত চারজন দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপে দাবানল: ৩২৫,০০০ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে সিয়াটলে ফুড ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫ সিয়াটলে ফুড ফেস্টিভ্যালের কাছে গোলাগুলিতে দুইজন নিহত, আহত পাঁচ চেরনিহিভে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষে ১০ জন নিহত, শিশু অন্তর্ভুক্ত রাজবাড়ীতে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন বগির ধাক্কায় নিহত ২, আহত ৬ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, পশ্চিম তীরে মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলে বিপর্যয়, তিন লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলে তিন লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া
জাতীয়

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বছরে নিহত ৭৩৬৪ শিক্ষার্থী, উদ্বেগজনক তথ্য

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বছরে নিহত ৭৩৬৪ শিক্ষার্থী, উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বছরে নিহত ৭৩৬৪ শিক্ষার্থী, উদ্বেগজনক তথ্য

২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৫.১১%। এ সময়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৮ হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন, যা মোট নিহত শিক্ষার্থীর ৪৫.১৯%। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬ জন, যা ৫৪.৮০%।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন। পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯২৩ জন। এছাড়া যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ৯২৭ জন, বাইসাইকেল ও রিকশা আরোহী হিসেবে ৫১৯ জন এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, মহাসড়কে ১ হাজার ৪৮২ জন, আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ১৪৯ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। পথচারী হিসেবে নিহতদের মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ২৫১ জন, আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন, শহরের সড়কে ৫৩৭ জন এবং গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন রয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় বা চাপায় বেশি নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে, যা আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।

এছাড়া গত সাড়ে ৭ বছরে অসাবধানভাবে রেললাইন পারাপার এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটি ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে শিক্ষার্থীদের নিহতের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইন, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

বিজ্ঞাপন