গাজায় চলমান আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে ইসরায়েলে জার্মানির অস্ত্র রফতানি লাইসেন্সের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সামরিক লাইসেন্সের মোট মূল্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে একটি গোপন 'প্রধান নৌপ্রকল্পের' জন্য, যা মূলত সাবমেরিন চুক্তির সাথে সম্পর্কিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান প্রস্তুতকারক সংস্থা 'টিকেএমএস' দ্বারা নির্মিত ডলফিন-টু শ্রেণির সাবমেরিন 'আইএনএস ড্রাকন' এই চালানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সাবমেরিনটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং আনুমানিক ৪৮০ মিলিয়ন ইউরো (৫৪৮ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের। সম্প্রতি এটি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই সাবমেরিনে 'ভার্টিক্যাল লাঞ্চিং সিস্টেম' যুক্ত থাকতে পারে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেডযুক্ত ক্রুজ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা প্রদান করবে। এর ফলে ইসরায়েল দক্ষিণ কোরিয়ার পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে আধুনিক নন-নিউক্লিয়ার সাবমেরিনে ভিএলএস প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছে।
গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে জার্মানির অস্ত্র সরবরাহের দ্বৈত নীতি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থা 'শ্যাডো ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টিগেশনস'-এর গবেষক রুথ রোড বলেন, ইসরায়েল পূর্বেও গাজায় হামলা ও অবরুদ্ধ করতে জার্মান যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে। বর্তমানে সাবমেরিন সরবরাহ ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ভান্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে চাঙ্গা করার ওপর জোর দিচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে জার্মানি রেকর্ড ১৩.৮৭ বিলিয়ন ইউরোর অস্ত্র রফতানি লাইসেন্স অনুমোদন করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।