মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব একটি নাগরিক পারমাণবিক প্রকল্প স্থাপনের জন্য সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে, যা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানিতে সহায়তা করবে।
তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শর্ত, যাতে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে, চুক্তির অগ্রগতিতে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না যতক্ষণ না ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্পষ্ট পথ তৈরি হয়।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে। চুক্তির কিছু বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি শর্ত হলো সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা নির্মাণ করা হবে।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চুক্তি শুধুমাত্র অ-সামরিক ব্যবহারের জন্য, যেমন ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর কাছে রয়েছে। তবে, সৌদি আরবের এই চুক্তির বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া হবে, তবে ট্রাম্পের নতুন শর্ত চুক্তির অগ্রগতিকে জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরব যদি এই চুক্তি থেকে সরে আসে, তবে তারা চীন, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ফ্রান্সের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার দিকে নজর দিতে পারে।
সৌদি আরবের জন্য পূর্ণ নাগরিক পারমাণবিক শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে, যার মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি সংগ্রহ করা অন্যতম।
চুক্তিটি আন্তর্জাতিক নজরদারির প্রশ্নও উত্থাপন করে। সৌদি আরব এখনও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) 'অতিরিক্ত প্রোটোকল' নথিতে সম্মত হয়নি, যা সম্প্রসারিত নজরদারি, পরিদর্শন এবং যাচাইকরণের অনুমতি দেয়। তবে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।