বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার জন্য চীন বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে আলোচনায় আসে।
প্রস্তাবিত করিডরটি চীনের কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালয়ে পৌঁছাবে। এরপর এটি ইয়াঙ্গুনের দিকে বিস্তৃত হবে এবং রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত যাবে। এই রুটের মাধ্যমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক, রেল ও সমুদ্রপথে সংযোগ স্থাপন করা হবে।
তবে, এই বিশাল প্রকল্পের জন্য প্রধান বাধা হলো ভূরাজনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং রাখাইনের অস্থিরতা। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে প্রতিনিয়ত মাদক ও অস্ত্র জব্দ হচ্ছে, যা নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আ ন ম মুনীরুজ্জামান জানান, মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ছাড়া এই করিডরের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে করিডর প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। চীনের অন্যান্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল্যায়ন করে করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এশিয়া ও ইউরোপের প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক করিডর রয়েছে। এর মধ্যে নিউ ইউরেশিয়ান ল্যান্ড ব্রিজ সবচেয়ে কার্যকর। অন্যগুলো বর্তমানে আংশিকভাবে চালু রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীনের প্রস্তাব কতটা উপযোগী তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঢাকা-বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকেরা সতর্কতার সঙ্গে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন।