সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির দ্রুত পুনর্গঠন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রভাব

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির দ্রুত পুনর্গঠন করছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির দ্রুত পুনর্গঠন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির অবকাঠামো দ্রুত পুনর্গঠন করছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম ইরানের কানগাভার এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির দুটি সুড়ঙ্গ প্রবেশমুখ ও সংলগ্ন সড়ক বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মার্চে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেলেও, কয়েক সপ্তাহ পর নতুন খননকৃত সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ এবং পুনর্নির্মিত সড়ক দেখা যায়।

ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তার দাবি, হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি সেতু কয়েক দিনের মধ্যেই মেরামত করতে সক্ষম হয় ইরান। জুলাইয়ের শুরুতে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী বান্দার আনজালির একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানায় আংশিক পুনর্গঠনের কাজও দেখা গেছে, যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট।

২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যেভাবে ইরান দ্রুত অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন আইডিএফের সাবেক বিমান প্রতিরক্ষা প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রান কোখাভ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অনেক ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কেবল ভূপৃষ্ঠের প্রবেশমুখ ধসে পড়েছিল, তবে ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি। ফলে প্রবেশপথ পুনরায় খনন করলেই সেসব স্থাপনা আবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে।

ডব্লিউএসজে জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের দেজফুল শহরের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ২০২৬ সালের মার্চে হামলার পর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, রাজা শিমি ইন্ডাস্ট্রিজেও আংশিক পুনর্গঠনের কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত।

কিংস কলেজ লন্ডনের সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উপাদান উৎপাদনের স্থাপনা পুনর্গঠনে ইরানের কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে ব্যবহারের জন্য ইরান এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আগেই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় মজুত করে রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন