ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আসা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে অনশন ভাঙতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক। বুধবার (২২ জুলাই) তার অনশনের ২৫তম দিনে এই অবস্থানের কথা জানান তিনি।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগে করা দুটি আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর।
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কোনো সতর্কতা ছাড়াই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। এমনকি এক নারীকে মারধরের অভিযোগে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সন্দীপ লাম্বাকে আদালতে তলবের দাবি জানান তারা।
তবে দিল্লি পুলিশ আদালতে দাবি করে, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না এবং বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য, পাথর নিক্ষেপের ফলে পুলিশ সদস্যরাও আহত হন, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে হাজারো মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হন। সিজেপির নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়, যার মধ্যে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ অন্তর্ভুক্ত।
পুলিশ আন্দোলনকারীদের সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। সিজেপি জানিয়েছে, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে আলোচনার স্থান হতে হবে নিরপেক্ষ।
দলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।