ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের তীব্রতার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, জ্বালানির আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বাড়ছে। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে সরকার বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় দাম নির্ধারণ শুরু করে। গেল জুনে দেশে তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও, জুলাই মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর বিশ্বে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। এই ঘটনার ফলে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়তে শুরু করে। হামলার সময় অপরিশোধিত জ্বালানির ব্যারেল প্রতি দাম ছিল ৭২ ডলার। পরে এপ্রিল শেষে দাম ১২৬ ডলারে পৌঁছায়, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করে। ২৬ জুন তা ফের ৭২ ডলারে নেমে আসে। তবে ইরানে মার্কিন হামলার প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়ানোর ফলে চলতি মাসের শুরু থেকে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ সোমবার ব্যারেল প্রতি দাম ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।