সিঙ্গাপুরে অবৈধভাবে শিশু কেনাবেচার অভিযোগে অভিযুক্ত একটি চক্রের বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার আদালত। গত বছর এই মামলাটি সামনে আসার পর ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পশ্চিম জাভার আদালতে ১৯ জনের বিচার চলছে, যার মধ্যে ১৮ জন নারী এবং একজন পুরুষ। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি শিশু পাচার করে এবং অবৈধভাবে দত্তকের প্রক্রিয়াকে বৈধ দেখাতে জাল নথি তৈরি করেছে। মোট ৩৪টি শিশুকে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২০টি শিশুকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
বিচারের সময় জানা যায়, অন্তত ১২টি শিশু ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছে গেছে। অভিযুক্তরা আদালতে দাবি করেছেন যে তারা জানতেন না তাদের কর্মকাণ্ড বেআইনি। তারা জানান, তারা শুধুমাত্র 'পরিবারগুলোকে সহায়তা' করার চেষ্টা করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযুক্তদের পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের দাবি করেছেন। মামলার অন্যতম আসামি ৭০ বছর বয়সী লি সিউ লুয়ানকে মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি শিশু সংগ্রহ, দেখভাল এবং জাল নথি তৈরির কাজ পরিচালনা করতেন।
লি আদালতে স্বীকার করেছেন যে তিনি অন্তত চারজন সিঙ্গাপুরীয়ের কাছে দত্তকের জন্য শিশু সরবরাহ করেছিলেন। প্রতিটি শিশুর জন্য ১৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। লি বলেন, তিনি জানতেন না বিদেশে দত্তকের জন্য শিশু পাঠানো বেআইনি।
২০২২ সালের শেষ দিকে অভিযোগ ওঠে যে সিঙ্গাপুরের কয়েকজন ব্যক্তি লি সিউ লুয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ২০২৩-২০২৫ সাল পর্যন্ত চক্রটি অবৈধভাবে শিশু কেনাবেচা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিচার শুরু হয় এবং অভিযুক্তদের আদালতে লাল রঙের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়ায় শিশু পাচারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে, তবে বেশিরভাগ ঘটনায় দেশের অভ্যন্তরেই শিশু স্থানান্তরের অভিযোগ ছিল। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৯১টি শিশু পাচার-সম্পর্কিত অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮০টি শিশু জড়িত ছিল।