২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য ছিল মানব সৃষ্ট ভুল কমানো এবং ম্যাচ পরিচালনাকে আরও নির্ভুল করা। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ভিএআরসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি।
বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, "প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে ফিফাকে নতুন করে ভাবতে হবে।" গোললাইন টেকনোলজি, সেমি-অটোমেটেড অফসাইড, ভিএআর, এবং স্নিকোমিটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি মাঠে রেফারির সহায়তা করছে, তবে ফাউল বা বিল্ড-আপ পর্যায়ের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে এখনও ব্যাখ্যার সুযোগ রয়ে গেছে।
আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচে ভিএআর বিতর্ক সৃষ্টি করে। বিল্ড-আপে ফাউলের কারণে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয়, কিন্তু আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মিশরের সালাহর পড়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রযুক্তির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্রাজিলের প্রথম গোল, পর্তুগাল–ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে স্নিকোমিটারের সিদ্ধান্ত এবং ইংল্যান্ডের গোলের আগে বল ক্যামেরার তারে লেগেছিল কি না, এসব ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, প্রযুক্তিতে কোনও স্পর্শ ধরা পড়েনি, তবে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি কখন রেফারির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে, কোন পরিস্থিতিতে ভিএআর ব্যবহৃত হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত কতটা স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, এসব বিষয় আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।