কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেছেন এবং তাঁর ১৮ বছরের শাসন কাতারকে সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
শেখ হামাদ, যিনি ‘ফাদার এমির’ নামে পরিচিত, কাতারের অর্থনীতি, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার এনেছিলেন। তাঁর শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪ গুণ বৃদ্ধি পায় এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
শেখ হামাদ ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহার জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি থেকে স্নাতক হন এবং কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেন।
১৯৯৫ সালে শেখ হামাদ কাতারের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সালে তাঁর পুত্র শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তাঁর নেতৃত্বে কাতারের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে, যা দেশটির শক্তিশালী শক্তি খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্ভব হয়।
শেখ হামাদ ১৯৯৬ সালে এলএনজি রপ্তানি শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক হয়ে ওঠে। তাঁর শাসনামলে কাতার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং মিডিয়া খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করে।
১৯৯৫ সালে তিনি স্থানীয় সংবাদপত্রের সেন্সরশিপ বাতিল করেন এবং ১৯৯৬ সালে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়া জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
শেখ হামাদ ২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান গ্রহণে নেতৃত্ব দেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে। তিনি ২০০৪ সালে “কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০” প্রকল্প চালু করেন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে।
শেখ হামাদ কাতারের রাজনৈতিক প্রভাব উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত করেছেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন সংঘাতের মধ্যস্থতা করেছেন।