কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি রাজধানী দোহায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। ১২ জুলাই রোববার তার দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৪ বছর।
রোববার সকালে কাতারের আমিরি দিওয়ান শেখ হামাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বাদ মাগরিব দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় শোকাহত মানুষ ঐতিহ্যবাহী কাতারি পোশাক পরিহিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে সাবেক আমিরের জন্য দোয়া করেন। জানাজার পর, শেখ হামাদের ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বাবার মরদেহ কাঁধে বহন করেন। পরে তাকে দোহার উত্তরে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আল জাজিরার প্রতিনিধি জেইন বাসরাভি জানান, দাফন প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সাদামাটা, যা শেখ হামাদের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। তিনি দেশের মানুষের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
শেখ হামাদ ১৯৯৫ সালে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কাতারের ক্ষমতায় আসেন এবং ১৮ বছর নেতৃত্ব দেন। তার শাসনামলে কাতার মধ্যপ্রাচ্যের একটি ছোট মরু রাষ্ট্র থেকে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়।
তিনি প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদকে কাজে লাগিয়ে কাতারের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০০৬ সালে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়।
শেখ হামাদের সময় কাতার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে কাতার।
১৯৯৬ সালে আল জাজিরা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ব গণমাধ্যমে শেখ হামাদের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। আল জাজিরার মহাপরিচালক শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল থানি বলেন, শেখ হামাদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বিশ্বাস করতেন।
২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কারে শেখ হামাদের অবদানও উল্লেখযোগ্য। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-এতাইবি বলেন, শেখ হামাদ কাতারের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।