মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির অর্থনৈতিক বিপ্লব কাতারে

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির নেতৃত্বে কাতারের অর্থনীতি বিপ্লব ঘটেছে।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির অর্থনৈতিক বিপ্লব কাতারে

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি, যিনি রবিবার ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন, কাতারের অর্থনীতিকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তুলেছেন। তার ১৮ বছরের শাসনকালে, তিনি দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোকে পরিবর্তন করে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ কাতার গড়ে তুলেন।

১৯৯৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময়, কাতারের অর্থনীতি ছিল সীমিত এবং প্রধানত তেলের উপর নির্ভরশীল। তখন উত্তর ক্ষেত্রের বিশাল গ্যাস সম্পদ উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। দুই দশকের মধ্যে, কাতার বিশ্বের বৃহত্তম তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ হয়ে ওঠে এবং একটি বৃহৎ sovereign wealth fund গড়ে তোলে।

শেখ হামাদের নেতৃত্বে কাতারের অর্থনৈতিক মডেল পুনর্গঠন করা হয়। তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের আয়ের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ করেন, যা স্থায়ী আয়ের উৎস নির্মাণে সহায়ক হয়।

১৯৮৯ সালে শীর্ষ পরিকল্পনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর, শেখ হামাদ কাতারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিগুলি গঠন করতে সহায়তা করেন। তার নেতৃত্বে, উত্তর ক্ষেত্রের উন্নয়ন কাতারের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মূল সূচনা করে।

১৯৯০ এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধে গ্যাস তরলীকরণ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কাতারকে বিশ্ব শক্তি বাজারে নেতৃত্বের দিকে নিয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে প্রথম এলএনজি রপ্তানি শুরু হওয়ার পর, মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে কাতার বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক হয়ে ওঠে।

শেখ হামাদের শাসনকালে, কাতারের অর্থনীতি ২০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯৫ সালে দেশের জিডিপি ছিল প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৩ সালে প্রায় ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, কাতারের অর্থনীতি বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার অর্জন করে।

২০০১ সালে, শেখ হামাদ অর্থনৈতিক বিষয়ক শীর্ষ পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণ। ২০০৫ সালে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (কিউআইএ) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আর্থিক উদ্বৃত্ত পরিচালনা করে।

কিউআইএ বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম sovereign wealth fund গুলোর মধ্যে একটি, যা বার্কলেজ এবং ফোক্সওয়াগেনের মত কোম্পানিতে অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে। কাতারের বিনিয়োগ নীতি এখন প্রায় সকল মহাদেশে বিস্তৃত হয়েছে।

শেখ হামাদের সময় কাতার জিডিপি প্রতি মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করে।

বিজ্ঞাপন