চার দশক আগে ইরান ও ইরাকের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, দুই দেশের সম্পর্কের বাস্তবতা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। মার্কিন হামলায় নিহত ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রায় এ পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকযাত্রা শুধুমাত্র ধর্মীয় শোক নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ইরাকের শোকযাত্রায় লাখো মানুষের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণকে নির্দেশ করে।
শিয়া মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নাজাফ ও কারবালায় এই আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান দেখিয়েছে যে, যুদ্ধের অতীত পেরিয়ে বাগদাদে তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব কতটা শক্তিশালী।
একজন ইরানি কূটনীতিকের বক্তব্য অনুযায়ী, শোকযাত্রার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দেওয়া। তিনি জানান, বাগদাদে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও ইরাকের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে তেহরানের অবস্থান এখনও অনন্য।
অন্যান্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে এই বিশাল জনসমাগমের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চেয়েছে যে, ইরাক তাদের আঞ্চলিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে, এই শোকযাত্রা ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিভাজনও তুলে ধরেছে। শিয়া সম্প্রদায়ের অনেকেই এটিকে ধর্মীয় সংহতির প্রকাশ হিসেবে দেখলেও, ইরাকি জাতীয়তাবাদীদের একটি অংশ দেশের মধ্যে ইরানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।