বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর ফিরে এসে নরওয়ে ফুটবলে একটি নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে কেবল আর্লিং হাল্যান্ডের অবদান নয়, বরং দেশের যুব উন্নয়ন ব্যবস্থা এবং ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার হাল্যান্ড চলতি টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করেছেন এবং মার্টিন ওডেগার্ডের সঙ্গে দলের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। ওডেগার্ড আর্সেনাল ও নরওয়ের জাতীয় দলের অধিনায়ক। এবারের বিশ্বকাপে ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলে ১৭ জন খেলোয়াড়ই ইউরোপের শীর্ষ চার লিগে খেলছেন।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের খেলোয়াড় উন্নয়ন বিভাগের প্রধান হাকন গ্রটল্যান্ড জানান, এই সাফল্য দুই দশকের পরিকল্পনার ফল। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল নরওয়েকে একটি ফুটবল জাতিতে রূপান্তর করা।”
গ্রটল্যান্ডের মতে, কৃত্রিম মাঠে বিনিয়োগ এবং এনটিএস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোচিং বিপ্লব ঘটেছে। ২০০০ সালের পর থেকে নরওয়ে বিপুল সংখ্যক কৃত্রিম মাঠ নির্মাণ করেছে, যা ফুটবলকে সারা বছরের খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নরওয়ের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া খাতে অর্থায়নের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জুয়ার আয়ের ব্যবহার। নরস্ক টিপিং তাদের আয়ের ৬৪ শতাংশ ক্রীড়া খাতে দান করে, যা অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়। ২০২৬ সালে নরস্ক টিপিং ক্রীড়া অবকাঠামোর জন্য ২০০ কোটিরও বেশি নরওয়েজিয়ান ক্রোনার আয় করেছে।
২০১৩ সালে এনটিএস কাঠামো গড়ে তোলার পর নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। এনটিএস একটি জাতীয় উন্নয়ন কাঠামো, যা তৃণমূল ক্লাব, জেলা ও ফেডারেশনকে একত্রিত করে।
গ্রটল্যান্ড বলেন, “এনটিএস আমাদের শেখায় ঐক্য ও নিরাপত্তা।” এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের সাফল্য তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সঠিক অর্থায়নের ফল।