চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে বৃষ্টির কারণে প্রাণহানির শঙ্কা বাড়লেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। প্রশাসন বর্ষায় মাইকিং ও নির্দেশনার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করলেও দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
দুই দশকে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে অন্তত ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও রহমাননগরে দুই শিশুসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রশাসনের সতর্কবার্তা এবং মাইকিংয়ের পরও অনেকেই পাহাড়ের ঢালে বসবাস চালিয়ে যাচ্ছেন।
নগরপরিকল্পনাবিদ শাহজালাল মিশুক জানান, কর্মস্থলের নিকটবর্তী অবস্থান, কম ভাড়া এবং সহজে জায়গা পাওয়ার কারণে এসব পাহাড়ে অনানুষ্ঠানিক বসতি গড়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের বেশির ভাগই রিকশাচালক, পোশাকশ্রমিক, দিনমজুর, গৃহকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
বিশেষজ্ঞরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারি বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে, যা পাহাড়ে ধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চুয়েটের সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশের পাহাড় প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় ভূতাত্ত্বিকভাবে বেশি নাজুক।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, "টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।" তবে মানুষের সচেতনতার অভাব ও লোভ বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহযোগিতা জরুরি। পাহাড় রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থানান্তর এবং ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।