মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

কিউবায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট দিয়াজ

কিউবায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট দিয়াজ যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন।

কিউবায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট দিয়াজ

কিউবা জ্বালানি সংকটের মধ্যে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। ৬ জুলাই, সোমবার, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড সম্পূর্ণভাবে বিকল হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এই বিপর্যয়ের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছেন। জরুরি সেবা চালু রাখতে হাসপাতালগুলোতে ‘মাইক্রো সিস্টেম’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চলতি বছরে সংকট তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে দেশটির প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারীরা তেল পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত করে কিউবার জনগণকে সংকটে ফেলতে চাইছে এবং 'শ্বাসরোধের মাধ্যমে একটি সামাজিক বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করছে।'

জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবার শিক্ষা, পরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির অর্থনীতি আরও চাপের মধ্যে রয়েছে, যার ফলে পর্যটক কমে যাওয়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার আয়ও হ্রাস পাচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কিউবার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপের উদ্দেশ্য দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনা। গত মাসে কিউবার জাতীয় পরিষদ অর্থনীতি উন্মুক্ত করার জন্য বেশ কিছু সংস্কার অনুমোদন করেছে, তবে কিউবার পররাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা জানান, এসব সংস্কার দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এসব সংস্কারকে 'সামান্য এবং দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ' বলে মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিউবার পররাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'সমষ্টিগত শাস্তি' দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এবং বলেছেন, 'আজ কিউবার জনগণের বিরুদ্ধে যা ঘটছে, তা এক ধরনের গণহত্যা।'

বিজ্ঞাপন