চার মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের হিসাবও বদলে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা, তেল সরবরাহের ঝুঁকি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝোঁক—সব মিলিয়ে বিশ্বের জ্বালানি খাত আর আগের অবস্থায় ফিরছে না। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রণালিই হয়ে ওঠে অনিশ্চয়তার কেন্দ্রবিন্দু।
যুদ্ধ শুরুর চার মাস পরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি, বাড়তি বীমা ব্যয় এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানিকে এখন শুধু অর্থনৈতিক পণ্য হিসেবে নয়, বরং একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তেলক্ষেত্র, গ্যাস টার্মিনাল ও রপ্তানি বন্দরগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠায় নতুন করে ঝুঁকির হিসাব কষছেন বিনিয়োগকারীরা।
ভবিষ্যতে যেকোনো সময় উত্তেজনা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশ এখন থেকেই নতুন পাইপলাইন নির্মাণ, বিকল্প রুট এবং কৌশলগত তেল মজুদে গুরুত্ব দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। ইউরোপ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য নতুন উৎস খুঁজছে।
এদিকে এশিয়ার দেশগুলোও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, বিশ্ব এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জ্বালানি ও জাতীয় নিরাপত্তা একই আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাবে এমন একটি পরিবর্তন শুরু হয়েছে, যা আগামী কয়েক দশক বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও বেশি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ও ভূরাজনীতিনির্ভর করে তুলবে।