রাশিয়া বর্তমানে একটি গুরুতর জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, যা ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে তেল পরিশোধনের সক্ষমতার একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলস্বরূপ। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ এবং কৃষি মৌসুমের সময় সরকার জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় রুট করতে, মূল্য সীমা বজায় রাখতে এবং রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তৎপর রয়েছে।
দেশজুড়ে, বিশেষ করে রাজধানী মস্কোতে, পেট্রোল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সেখানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। কিছু স্থানে পাম্প সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গেছে। মস্কোতে গাড়ি ভর্তি করার জন্য অপেক্ষা করা ইরিনা নামের একজন মহিলা আল জাজিরাকে বলেন, “আমি পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
অন্য একজন মস্কোবাসী ইগর বলেন, “যদি সংকট বড় শিল্পগুলোকে বন্ধ করে দেয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে, যা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে।
রাশিয়ান ফিনান্সিয়াল ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের বিশেষজ্ঞ স্তানিস্লাভ মিত্রাখোভিচ বলেন, “সংকট গভীর, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ এটি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতিক্রিয়া জনসাধারণের মধ্যে আরও বেশি অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে।”
ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার তেল পরিশোধনের ক্ষমতার প্রায় এক চতুর্থাংশকে অক্ষম করেছে বলে পর্যালোচকরা জানিয়েছেন। সংকটের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং কিছু অঞ্চলে তেল পরিশোধনাগার নেই।
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়, রাশিয়া জ্বালানি রেশনিং কার্যকর করেছে। বিক্রয় প্রায়ই প্রতি গাড়িতে ২০-৩০ লিটার (৫-৮ মার্কিন গ্যালন) সীমাবদ্ধ থাকে। সরকার পেট্রোল এবং জেট ফুয়েল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে এবং এখন ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংকট স্বীকার করেছেন, তবে তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে একটি সংকটের মুখোমুখি, তবে আমি বলব এটি গুরুতর নয়।”
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ৪০ দিনের সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযান অনুমোদন করেছেন, যা রাশিয়াকে যুদ্ধ শেষ করতে চাপ দিচ্ছে। মিত্রাখোভিচ বলেন, সংকটের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা এবং রাশিয়ার বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতার উপর।