ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ১৭ জনকে আটক করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতের এই সংঘর্ষের প্রতিবাদে বুধবার ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধরা। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা বাজারের রেস্টুরেন্ট শ্রমিক এবং কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টায় সুমন শেখের হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যান।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গত রাতে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহতের ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মরদেহ দাফনে ব্যস্ত থাকায় লিখিত অভিযোগের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, নিহতের ঘটনায় ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়ক এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
এতে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুলিবিদ্ধ সুমন শেখকে রেফার্ড করা হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।