মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

সাইফ আলি খানের উপর হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রকাশ

সাইফ আলি খান তার ওপর হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

সাইফ আলি খানের উপর হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রকাশ

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসায় এক অনুপ্রবেশকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তার শরীরে ছয়টি ক্ষত তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ছিল শিরদাঁড়ার খুব কাছাকাছি। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ভাঙা ছুরির অংশ বের করেন।

ঘটনার তিন দিন পর মহারাষ্ট্রের থানে এলাকা থেকে মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করে মুম্বাই পুলিশ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাইফ আলি খান সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হামলাকারীকে ক্ষমা করে দেওয়ার ব্যাপারে তার আপত্তি নেই।

সাইফ বলেন, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত যুবক ভবনের পেছনের দিক দিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে এবং পরে ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর (জেহ)-এর ঘরে লুকিয়ে ছিল। অপরিচিত একজনকে দেখে জেহ কাঁদতে শুরু করলে ন্যানি তার কান্না থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারী ন্যানি ও শিশুটির ওপর হামলা চালায়।

সন্তানের কান্না শুনে পাশের ঘর থেকে সাইফ হামলাকারীকে প্রতিরোধ করতে আসেন। তখন অভিযুক্ত তার ঘাড়, হাত ও পিঠে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। দীর্ঘ ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাইফ মাটিতে পড়ে গেলেও পরে উঠে হামলাকারীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। সেই সুযোগে ন্যানি জেহকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পরে বাড়ির অন্য কর্মচারীরা এসে অভিযুক্তকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফকে দ্রুত লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার সময় তার বড় ছেলে তৈমুর তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'তুমি কি মারা যাবে?' সাইফ বলেন, 'রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থা দেখে তখন আমারও মনে হচ্ছিল, হয়তো তাই হতে পারে।'

তবে এত বড় ঘটনার পরও হামলাকারীর প্রতি ক্ষোভ পুষে রাখতে চান না সাইফ। তিনি বলেন, এটি মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য থেকে জন্ম নেওয়া একটি অপরাধ। সমাজের এক শ্রেণির মানুষের কাছে সবকিছু থাকলেও আরেক শ্রেণির মানুষের কাছে কিছুই থাকে না। এমন বৈষম্যই অনেক সময় মানুষকে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।

বিজ্ঞাপন