২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ফিফা ফুটবলীয় ভাগ্যের সমীকরণে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। প্রথাগত 'গোল ডিফারেন্স' নিয়মকে বাদ দিয়ে এবার গ্রুপ পর্বের ভাগ্য নির্ধারণে 'হেড-টু-হেড' বা মুখোমুখি লড়াইয়ের রেকর্ডকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে মোট ২৪টি দল এবং তাদের সাথে যোগ হবে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল। ফলে, মোট ৩২টি দল নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে শুরু হবে 'রাউন্ড অব ৩২'-এর নকআউট রোমাঞ্চ। পয়েন্ট টেবিলে সমতা এলে তিনটি কঠোর ধাপ বা স্টেপ পার করতে হবে দলগুলোকে।
ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সমান পয়েন্ট থাকা দলগুলোর মুখোমুখি লড়াইয়ে অর্জিত পয়েন্ট দেখা হবে। যদি সেখানে সমতা থাকে, তবে হেড-টু-হেড গোল ব্যবধান এবং গোল সংখ্যা বিবেচনা করা হবে। প্রথম ধাপে সমান হলে দ্বিতীয় ধাপে গ্রুপের সব ম্যাচের গোল ব্যবধান, মোট গোল সংখ্যা এবং ফেয়ার প্লে রেটিং পয়েন্ট হিসাব করা হবে।
নাটকীয় পরিবর্তনটি তৃতীয় ধাপে দেখা যাবে। যদি টাইব্রেকারের দ্বিতীয় ধাপে সমতা থাকে, তবে লটারি বা টসের বদলে ফিফার অফিশিয়াল বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকার ওপর ভিত্তি করে ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে।
চলমান বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে সহ-আয়োজক মেক্সিকো। গ্রুপ 'এ'-তে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে তারা প্রথম দল হিসেবে শেষ ৩২-এ পা রাখে।
আরেক সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও শুক্রবার (১৯ জুন) দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। তারা গ্রুপ 'ডি'-তে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে এবং অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে টিকিট বুক করে।
অপরদিকে, প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে হাইতি। স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ এবং ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে তারা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়। তুরস্কও গ্রুপ 'ডি' থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেও অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ের কাছে পরাজিত হয়ে তারা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।