মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির আংশিক খুলে দেওয়ার কথাও রয়েছে।
সোমবার ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প বলেন, সমঝোতার খসড়া শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তবে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো চুক্তি টেকসই হবে না।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ। এ সময়, জেডি ভ্যান্স ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেয়ার ইঙ্গিত দেন।
জি-সেভেন সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে গিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি হয়েছে।
তবে ইরান সতর্ক করে জানায়, চুক্তির শর্ত ভাঙলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা পাবে না তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস এখনও কাটেনি এবং লেবাননের নিরাপত্তা ছাড়া কোনো চুক্তি টেকসই হবে না।
বাঘাই আরও বলেন, লেবাননে যুদ্ধের অবসান এই চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। খসড়া প্রস্তাবে লেবাননের বিষয়টি তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সম্মান জানানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগই প্রমাণ করে ইরান তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলবে।