মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও উভয় পক্ষের সমঝোতার ঘোষণা দেন।
চুক্তির স্মারকটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শেহবাজ শরিফ জানান, সমঝোতার আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। ট্রাম্প জানান, আগামী শুক্রবার থেকে পুনরায় চালু হবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী বলেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় আরও বিস্তৃত একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎও আলোচনার অংশ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সংঘাতের সময় ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ সৃষ্টি করে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম চুক্তিকে স্বাগত জানালেও পারমাণবিক ইস্যুতে ভবিষ্যৎ আলোচনার দিকে নজর রাখার কথা বলেছেন।
চুক্তির বিস্তারিত শর্ত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার ওপরই নির্ভর করবে।