সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা: আজ স্বাক্ষর হবে কি?

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তিচুক্তি আজ স্বাক্ষর হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা: আজ স্বাক্ষর হবে কি?

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি দীর্ঘ একশ' দিনেরও বেশি সময় ধরে চলমান। এ যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার, ১৪ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

তবে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আজ চুক্তিটি স্বাক্ষর হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, 'চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই'।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করা হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, চুক্তি আজ স্বাক্ষরিত হবে এবং হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তিনি এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপন করবে।

আলোচনায় ১৪টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত বন্ধে পারস্পরিক অঙ্গীকার, আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে পৃথক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সব পথ বন্ধ করতে হবে, অন্যদিকে তেহরান বলছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিও আলোচনা কেন্দ্রবিন্দু। ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রণালি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে, চুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই।

বিজ্ঞাপন