কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানান, জিসান বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে আত্মগোপনে যান এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান। তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় জিসান মিয়া প্রধানকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় আরও চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জিসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
জিসানকে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার পরিবার দাবি করে, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জিসান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে জানতে পারে, জিসান কয়েক মাস আগে ফেসবুকে এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে তিনি ১১ জুন রাতে আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আত্মগোপনে যাওয়ার পর জিসান থানায় নিখোঁজের জিডি করেন। তদন্তকালে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে এবং শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।