বিশ্বকাপ ২০২৬-এ লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরে ফুটবলের নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে প্রস্তুত।
বিবিসি স্পোর্টসের বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাবেন। আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে ইতোমধ্যে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১২ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করে তিনি নজর কাড়েন।
মেক্সিকোর ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা এবারের আসরের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়। লিগা এমএক্সের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন। মেক্সিকোর সমর্থকদের বড় প্রত্যাশা এই তরুণকে ঘিরে।
সুইজারল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি ফ্রেইবুর্গের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। ইউরোপা লিগে তার পারফরম্যান্স তাকে ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার রিকার্ডো পেপি পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে গত মৌসুমে ১৯ গোল করেছেন। বিশ্বকাপে গোলের দায়িত্ব অনেকটাই তার কাঁধে থাকবে।
আর্জেন্টিনার নিকো পাজ কোমোর হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর ১৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন। অনেকেই তার মধ্যে ভবিষ্যতের বড় তারকার সম্ভাবনা দেখছেন।
মরক্কোর গেসিম ইয়াসিন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। ডান প্রান্তের এই উইঙ্গারকে ইতোমধ্যে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার ১৮ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক লুকাস হ্যারিংটন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ স্কোয়াড সদস্য হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কেরিম আলাইবেগোভিচ প্লে-অফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি দেশের ফুটবলের নতুন পোস্টার বয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
তুরস্কের কান উজুন জার্মানিতে বেড়ে উঠলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তুরস্ককে বেছে নিয়েছেন। আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেক্সিকোর আরেক স্ট্রাইকার আরমান্দো গনসালেস গুয়াদালাহারার হয়ে ২৫ গোল করে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। এই ফরোয়ার্ডকে অনেকেই নতুন ‘চিচারিতো’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু প্রতিষ্ঠিত তারকাদের নয়, ফুটবলের নতুন প্রজন্মের উত্থানের মঞ্চও হতে যাচ্ছে। এই তরুণদের কেউ কেউ আগামী কয়েক সপ্তাহেই বিশ্ব ফুটবলের নতুন মুখ হয়ে উঠবেন।