আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম শুরু হয়েছে, যা জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন। জাতিসংঘ এবং আবহাওয়াবিদরা 'সুপার এল নিনো' নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
আমেরিকার আবহাওয়া সংস্থা নোয়া জানিয়েছে, এবারের এল নিনো আটলান্টিকে ঝড়ের দাপট কমাবে। এল নিনো বা 'এনসো' দুই মহাদেশের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা বিশ্বজুড়ে ঝড়ের সৃষ্টি করে।
এল নিনো সাধারণত আটলান্টিকে ঝড়ের তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব ৬০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। নোয়ার পরিচালক কেন গ্রাহাম বলেছেন, “এল নিনো ঝড় কমাতে পারে, কিন্তু একটি শক্তিশালী ঝড়ই ধ্বংস করতে পারে।”
অন্যদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরের কাছে ঝড়ের সংখ্যা বাড়বে। অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর ফলে ঝড়ের সংখ্যা কমলেও, ঝড়ের কেন্দ্র পূর্ব দিকে সরে যায়।
এশিয়ার জন্য এল নিনো মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়, ফলে খরা এবং দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।
এল নিনোর প্রভাবের কারণে আগামী ২০২৭ সালে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গরম বছর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এল নিনো পরিস্থিতি ফুটন্ত পৃথিবীর আগুনে আরও ঘি ঢালবে।”