শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: পরিবেশ সংকটের মুখে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে পরিবেশ সংকটের মুখে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: পরিবেশ সংকটের মুখে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দূষণকারী আসরে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন। সম্প্রসারিত টুর্নামেন্ট কাঠামো এবং বিমান ভ্রমণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ‘ফিফার ক্লাইমেট ব্লাইন্ড স্পট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি সায়েনটিস্ট ফর গ্লোবাল রেসপন্সিবিলিটি, এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ড এবং দ্য স্পোর্ট ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে অন্তত ৯ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নিঃসরণ হতে পারে।

নিউ ওয়েদার ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, এই পরিমাণ ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপগুলোর গড় নিঃসরণের প্রায় দ্বিগুণ। আরও বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন টন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা এটিকে ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম দূষণকারী আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচের কারণে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সমর্থকদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এই সম্প্রসারণের ফলে বিশেষ করে বিমান ভ্রমণজনিত কার্বন নিঃসরণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে, যেগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক ক্ষেত্রে হাজার হাজার কিলোমিটার। ফলে দল, সংবাদকর্মী এবং লাখো দর্শককে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে মূলত আকাশপথের ওপরই নির্ভর করতে হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র বিমান ভ্রমণ থেকেই ৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ হতে পারে, যা মোট নিঃসরণের সবচেয়ে বড় অংশ। আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় বিমান পরিবহন থেকে সৃষ্ট নিঃসরণ ১৬০ থেকে ৩২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, বিশ্বকাপ ক্রমেই বড় এবং আরও বৈশ্বিক হয়ে উঠছে। ইউরোপ বা এশিয়ার মতো উত্তর আমেরিকায় বিস্তৃত উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক না থাকায় পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার বিকল্পও সীমিত।

ফিফার জলবায়ু কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, ফিফা পরিবেশ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দল ও ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দূরবর্তী শহরগুলোকে ভেন্যু হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে।

ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে একটি টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে, তবে প্রতিবেদন প্রণেতারা মনে করেন, এসব উদ্যোগ টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন