পাবনা মানসিক হাসপাতাল এলাকায় ঠাকুর শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত বিশ্ব বিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃ মন্দির রক্ষার দাবি জানিয়েছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ। সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক ভবন দুটি নিলামে বিক্রি ও ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়।
ভক্তদের তীব্র আপত্তির মুখে কর্তৃপক্ষ আপাতত এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। মঙ্গলবার সকালে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবন দুটি রক্ষার দাবি জানান।
গণপূর্ত বিভাগ পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ঠাকুর অনুসারীদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য জানান, হেমায়েতপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, এই অনন্য ঐতিহাসিক ঐতিহ্যগুলোকে ভেঙে না ফেলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা উচিত। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার জানান, ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের অন্তত ১০ কোটি ভক্ত আছেন, যারা এই স্থানে তীর্থ ভ্রমণে আসেন।
তিনি দাবি করেন, এই স্থাপনাগুলো সংস্কার করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে গণপূর্ত বিভাগ ও মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবন দুটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের জন্য পুরাতন পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের জন্য নিলাম কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, "আমরা আপাতত এই দুটি ভবন নিলাম স্থগিত করেছি। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য নিলাম স্থগিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, "সরকার যেন এই প্রাচীন স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অনুধাবন করে এগুলোকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।" পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনার হিমায়েতপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২৯ সালে সৎসঙ্গ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।