বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমসের গানের ওপর একটি নতুন গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণার শিরোনাম ‘জেমসের গানে কাব্যময়তা, সুফিবাদ ও আবহমান বাংলার লোকজ উপাদান’ এবং এটি পরিচালনা করেছেন কবি ও সিঙ্গার সংরাইটার গ্যাব্রিয়েল সুমন।
গবেষণার কার্যক্রম শুরু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে, যা বাংলা একাডেমির গবেষণা প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বাংলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে গ্যাব্রিয়েল সুমন এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় জেমসের বিভিন্ন অ্যালবাম থেকে চারটি বিশেষ অ্যালবাম বেছে নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘দুঃখীনি দুঃখ করো না’, ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’ এবং ‘নগরবাউল’।
গ্যাব্রিয়েল সুমন জানান, ১৯৯৭ সালে জেমসের একক ‘দুঃখীনি দুঃখ করো না’ গানটি তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, “আমরা জাতি হিসেবে এতটাই পিছিয়ে পড়া যে, কেউ মারা না গেলে তার গুরুত্ব বুঝি না।”
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, জেমসের গানে আবহমান বাংলার বিভিন্ন লোকজ উপাদান যেমন চুড়ি ফিতা বিক্রি করা ফেরিওয়ালার জীবন, বায়োস্কোপ, হাউজি খেলা, হাডুডু খেলা, নাগ-নাগিনীর বেদে জীবনের গল্প এবং বাংলার লাঠিয়াল খেলার মতো বিষয়বস্তু রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেমসের গানে সুফিবাদের বিষয়সমূহও খুঁজে পাওয়া গেছে, যেমন ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ গানে ফানাফিল্লাহ ও বাকাবিল্লাহ এবং জিকিরের উল্লেখ রয়েছে।
গ্যাব্রিয়েল সুমন বলেন, “আমার ইচ্ছে আরও বিস্তারিতভাবে জেমসের সমস্ত গানের ওপর গবেষণা করার। এই গবেষণার সারবস্তু এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপন করা সময়ের দাবি।”
বর্তমানে গ্যাব্রিয়েল সুমন জেমসের কাজের ওপর একটি গদ্যভিত্তিক বই লিখছেন, যার নাম ‘এসো চুল খুলে পথে নামি’, যা জেমসের জন্মদিনে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।