বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের টানে আট বছর বয়সী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে দিঘির পূর্ব পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাত ৮টার দিকে দিঘির মহিলা ঘাটে শিশুটিকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির নাম ফাতেমা, যিনি মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীর মেয়ে।
ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ফাতেমা মায়ের সঙ্গে মাজারে থাকত এবং গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ঘটনার পর বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী বলেন, 'মেয়েটি মহিলা ঘাটে নেমেছিল। হঠাৎ একটি কুমির তাকে কামড় দিয়ে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।' স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে নামেন।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ জানান, কুমির হিংস্র প্রাণী হওয়ায় পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
এপ্রিলে দিঘির কুমিরের একটি কুকুরকে টেনে নেওয়ার ঘটনা আলোচিত হয়েছিল। ঐতিহ্য অনুযায়ী, খান জাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে কুমির ছেড়েছিলেন। বর্তমানে দিঘিতে একমাত্র নারী কুমিরটি রয়েছে।