সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান: অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, সরকারের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা।

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান: অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুর সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৩,১০০ একর বিস্তৃত এই এলাকায় দেড় লাখ মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্রের প্রয়োজন ছিল।

জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি বদলাতে গত ১৯ জানুয়ারি র‍্যাব-৭-এর অভিযানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় র‍্যাবের ওপর হামলা চালিয়ে একজন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর ৯ মার্চ থেকে জঙ্গল সলিমপুরে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়, যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ এবং বিজিবির প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেয়।

এই অভিযানে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান এবং ১,১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ২২ জনকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম পাহাড়ের অপরাধীদের আস্তানা খুঁজে বের করে।

জঙ্গল সলিমপুরের ভৌগোলিক অবস্থান অপরাধীদের জন্য সুবিধাজনক। উঁচু পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এখানে হঠাৎ অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নব্বইয়ের দশকে এখানে প্রথম বসতি স্থাপন করেন আলী আক্কাস নামের এক বন বিভাগের কর্মচারী। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছিন্নমূল মানুষ এখানে আশ্রয় নেন।

স্থানীয়দের মতে, এখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। ইয়াসিন গ্রুপের সদস্যরা র‍্যাবের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং এখানকার অপরাধের মূল উৎস হলো অবৈধ প্লট বাণিজ্য ও মাদক ব্যবসা।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ী পুলিশ ও র‍্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান বাসিন্দাদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা নেই, বরং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সরকারী প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে, এলাকাটি অপরাধমুক্ত করতে যৌথ বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিজ্ঞাপন