সিলেটে জ্বালানি তেল সরবরাহে চাপ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। তাদের দাবি, ডিপোতে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরকারের নির্ধারিত সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রেশনিং পদ্ধতির সমস্যার বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে সরকারি তিনটি ডিপোর ডিপো ম্যানেজার ও সহকারী ডিপো ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৭০টি এবং মহানগরীতে ৪৫টি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ৮ লাখ লিটারের বেশি ডিজেল এবং বাকি পেট্রোল ও অকটেন। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিপোগুলোতে কোনো ঘাটতি না থাকলেও রেশনিং ব্যবস্থার কারণে পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তারা মনে করেন, এই ব্যবস্থা তুলে দিলে সংকট দ্রুত কেটে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে জ্বালানির মধ্যে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং এটি প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। তবে সিলেটের গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ব্যারেল অকটেন, সাড়ে ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিনসহ কিছু জ্বালানি উৎপাদন হয়।
সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদদান বলেন, রেশনিং পদ্ধতির কারণে পাম্পগুলো নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল বিক্রি করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির আশঙ্কায় তেল উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে পাম্পগুলোতে তেলশূন্য অবস্থা তৈরি হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে যমুনা অয়েল লিমিটেডের সেলস অফিসার বেনজির আহমদ বলেন, ডিপোতে তেল থাকলেও সরকার নির্ধারিত রেশনিংয়ের বাইরে সরবরাহ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।