বিদ্যুতের ৭টি বড় সঞ্চালন লাইন বর্তমানে অলস অবস্থায় পড়ে আছে। বরিশাল-ভোলা-বোরহানউদ্দিন ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনটি প্রস্তুত থাকলেও ২০২২ সালে নির্মাণের জন্য চুক্তি করা ২৩০ কেভি ক্ষমতার সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়নি। রাষ্ট্রায়াত্ত্ব কোম্পানি পিজিসিবি এই কাজের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি দিলেও তারা সময়মতো কাজ করতে পারেনি।
উত্তরের নীলফামারী জেলার ডোমার-হাতিবান্ধা ও ডোমার-পূর্বশহর ১৩২ কেভি ক্ষমতার দুইটি সাবস্টেশন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও সেগুলোও বাস্তবায়ন হয়নি। এই এলাকায়ও সঞ্চালন লাইনগুলি অলস অবস্থায় রয়েছে।
শিবচর-গোপালগঞ্জ ১৩২ কেভি ক্ষমতার সাবস্টেশনেও একই অবস্থা বিরাজমান। সেখানে সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত থাকলেও সাবস্টেশন নির্মাণ না হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
ভোলা, নীলফামারী ও গোপালগঞ্জসহ সাতটি নতুন সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ ২০২২ ও ২০২৩ সালে এনার্জিপ্যাককে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো কাজ না হওয়ায় পিজিসিবি নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রশীদ খান বলেন, "এনার্জিপ্যাকের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে নতুন টেন্ডার করা হচ্ছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শিগগিরই নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইনে চার্জ না থাকায় চোরদের টার্গেট হচ্ছে এসব সম্পদ। সম্প্রতি নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি পাওয়ার গ্রিড সাবস্টেশন থেকে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে।
এনার্জিপ্যাকের চেয়ারম্যান রবিউল আলম বলেন, "ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞার কারণে কাজটি করতে পারিনি।" পিজিসিবি আশা করছে যে নতুন ঠিকাদার দ্রুত সাবস্টেশনগুলোর কাজ সম্পন্ন করবে এবং ডিজাইনসহ যাবতীয় কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।