সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২০

লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশের সংঘর্ষে ওসিসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২০

লক্ষ্মীপুরে শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আলেন্দালনের শিক্ষার্থীদের মিছিলের চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় মিছিলে বাধা দিলে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রদলের ব্যানারে জুলাই ফাইটার্সের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের হাসপাতালে রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জুলাই ফাইটার্স কর্মী, ছাত্রদল নেতা আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার ফলে হাবিবুর রহমান ফাহিম আহত হন।

এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে দুপক্ষের নেতা-কর্মীরা চকবাজার মসজিদের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়। আইনশৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কায় প্রশাসন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পৌর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সেখানে জড়ো হন।

সংঘর্ষের সময় পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং এতে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এদিকে, খবর পেয়ে জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে ধাওয়া দেয়। এতে জামায়াত নেতা শহিদউল্যাহসহ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়ে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেমুহনী গিয়ে শেষ হয়। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘হাবিবুর রহমান ফাহিম জুলাই যুদ্ধা। পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।’ অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, ‘ছাত্রদল নেতা আকবর হোসেন মুন্নার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহিৃত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছে। পুলিশ বাধা দিলে তারা হামলা চালায়। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন