সোমালিয়ায় জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশনের কার্যক্রম ৩১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। তিন দশকের বেশি সময় পর এই মিশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৫ সালে সোমালিয়ার জন্য জাতিসংঘের রাজনৈতিক কার্যালয় (ইউএনপিওএস) হিসেবে শুরু হওয়া এই মিশন ২০১৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক ইউএনএসওএম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন দিগন্তে প্রবেশ করে।
মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশটিতে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সোমালি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা, যা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
২০২৪ সালের মে মাসে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ মিশনটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বন্ধ করার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে দুই বছরের রূপান্তরকাল নির্ধারণ করা হয় এবং মিশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইউএনটিএমআইএস।
জাতিসংঘের মহাসচিবের সোমালিয়াবিষয়ক উপবিশেষ প্রতিনিধি রেইসডন জেনেঙ্গা এক বিবৃতিতে বলেন, "আজ জাতিসংঘ ও সোমালিয়ার অংশীদারত্বের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা।"
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা শুরুর সময়ের তুলনায় সোমালিয়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মিশনটির দায়িত্বগুলো সোমালিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের দেশীয় দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব এখনও মধ্য সোমালিয়ার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই লড়াই বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আগামী বছরের মে মাসে সোমালিয়ায় পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চলমান নিরাপত্তাহীনতা এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ নির্বাচন আয়োজনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।