রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

জি-২০ সম্মেলনে লাভরভের উপস্থিতিতে বাতিল ফ্যামিলি ফটো

জি-২০ সম্মেলনে লাভরভের উপস্থিতিতে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা ফ্যামিলি ফটোতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।

জি-২০ সম্মেলনে লাভরভের উপস্থিতিতে বাতিল ফ্যামিলি ফটো

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতিতে আপত্তি জানিয়ে 'জি-২০' পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ছবি বা ‘ফ্যামিলি ফটো’তে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউরোপের কয়েকটি দেশের কূটনীতিক। এর ফলে, সম্মেলনের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ছবিটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তোলার কথা ছিল ছবিটি। 'জি-২০' সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাধারণত এ ধরনের আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা হয়। তবে কূটনৈতিক আপত্তির মুখে ছবিটি বাতিলের বিষয়টি বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন দুই কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের 'জি-২০' পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, যার আয়োজক দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের আপত্তি নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে মন্তব্য করেন, ‘এই যুদ্ধে কে আগ্রাসী, তা আমরা সবাই জানি।’ তিনি ইউক্রেনে নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য রুশ সরকারকে দায়ী করেন।

মিলিব্যান্ড বলেন, ইউক্রেনে ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদস্য দেশগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ ক্ষতি অব্যাহত রেখেছে, এতে হাজারো নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

যুক্তরাজ্যের এক কর্মকর্তা জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রুশ মন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ না রাখার নীতি অনুসরণ করছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলাকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে এ বিরোধ দেখা দেয়।

ফ্যামিলি ফটো বাতিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল যৌথ ছবিতে অংশ নিতে অনিচ্ছুক হওয়ার পর ছবিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ‘একটি আনুষ্ঠানিক ছবির আয়োজনকে কূটনৈতিক মনোযোগের বিচ্যুতির কারণ হতে দেওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ছবিটি না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সম্প্রতি, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

বিজ্ঞাপন