দক্ষিণ কোরিয়া, পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি শক্তি, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার নতুন ট্রেন্ড 'টেক্সট হিপ' নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায়, তারা শুধু ডিভাইসের পর্দায় স্ক্রল করছে না, বরং মুদ্রিত বই পড়াকেও নতুনভাবে গ্রহণ করছে।
রাজধানী সিউলের গোয়াংতোংগিয়ো সেতুর নিচে এক বিকেলে, নানা বয়সের মানুষ বই হাতে বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানকার পরিবেশ, মেট্রোরেল এবং যানবাহনের কোলাহলের মাঝে তরুণরা বই পড়ায় মগ্ন। এই নতুন প্রবণতা 'টেক্সট হিপ' নামে পরিচিত, যা লিখিত বিষয় এবং আধুনিকতার সমন্বয়ে গঠিত।
দক্ষিণ কোরিয়ান কালচার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের সিউল আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণকারী দর্শনার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে, যা তরুণদের বইয়ের প্রতি আগ্রহের প্রমাণ। হান কাংয়ের নোবেল পুরস্কার অর্জনের পর এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।
বইয়ের বিক্রির পাশাপাশি, বই পড়ার সহায়ক সামগ্রীর বিক্রিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তরুণরা বইয়ের পাশাপাশি জার্নাল, ডায়েরি এবং বুকমার্ক কিনছেন। বিশেষভাবে সাজানো ক্যাফে ও বারগুলোতেও তাদের উপস্থিতি বাড়ছে।
বই পড়ার এই নতুন অভ্যাসটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পাঠাভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তরুণরা দলবদ্ধভাবে বই পড়া, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাহিত্য আলোচনা করছে। কিছু তরুণ নিজেদের পছন্দের লেখার অংশ অনুলিপি তৈরি করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের বই পড়ার প্রতি আকর্ষণের পেছনে রয়েছে নতুন ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা খোঁজার আগ্রহ এবং দ্রুতগতির বিনোদন থেকে দূরে থাকার আকাঙ্ক্ষা।
যদিও 'টেক্সট হিপ'-এর সমালোচনা হয়েছে, সমর্থকরা বলছেন, বই পড়ার উদ্দেশ্য যাই হোক, এটি নতুন পাঠক তৈরি করছে এবং প্রকাশনা শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।
বর্তমানে, প্রযুক্তির কল্যাণে ই-বুক পড়ার অভ্যাস বেড়েছে, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণরা আবারও ছাপা বইয়ের দিকে ফিরে আসছে। বই পড়াকে ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে নতুন জোয়ার এসেছে, যা প্রকাশনার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।