দক্ষিণ কোরিয়ার পালগংসান পাহাড়ের ঐতিহাসিক ‘দংহ্বাসা’ বৌদ্ধ মন্দিরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী প্রেমের আসর। এই অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষু বলেন, ‘আপনারা এখানে এসেছেন দেশকে এক বড় সংকট থেকে বাঁচাতে। একজন সঙ্গী খুঁজে নিন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম দিন।’
এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ইয়ু চিওল-জু জানান, দেশের জন্মহার কমে যাওয়া একটি জাতীয় সংকট। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার ২০২৩ সালে ০.৭২ এবং ২০২৫ সালে ০.৮ ছিল। তবে ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই হার ১.০-এ পৌঁছাতে পারে।
বৌদ্ধ মন্দিরের এই প্রেমের আসরে অংশ নিতে দেড় হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, যেখানে থেকে মাত্র কয়েকজনকে বেছে নেওয়া হয়। ২৮ বছর বয়সী সানহ্যেজি জানান, চাকরির কারণে সিউল ছাড়ার পর তিনি একা হয়ে পড়েছেন এবং পুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
আয়োজনে তরুণীরা ব্যাগ বহন করতে এগিয়ে আসেন তরুণরা। এরপর শুরু হয় আলাপ-পরিচয়, গোলাপ দেওয়া-নেওয়া, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং আড্ডা। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ‘ট্যালেন্ট শো’, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নাচ, গান এবং ভাষার দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
ডিনারের সময় সানহ্যেজি মিনহো নামের এক সরকারি চাকরিজীবীকে গোলাপ দেন। রাতের শেষে প্রধান ভিক্ষু দেশাত্মবোধক গান গেয়ে সন্তান জন্মদানের জাতীয় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন।
২০০৬ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জন্মহার বাড়াতে ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। তরুণীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুদের বিয়ে ও সন্তান হওয়ার খবর দেখে তাঁদের চিন্তাভাবনা ইতিবাচক হচ্ছে।
আয়োজন শেষে আটটি নতুন জুটি তৈরি হয়। সঙ্গী না মিললেও অংশগ্রহণকারীরা নতুন বন্ধু এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মন্দির ছাড়েন।