বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের সাইবার হামলার ঘটনায় পুরো ক্রিপ্টো জগতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর বিভিন্ন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ নিজেদের সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের সিস্টেম পর্যালোচনা শুরু করেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অফলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তায় পরিবর্তন এনেছে। অন্যদিকে ক্র্যাকেন জানিয়েছে, তারা শিল্পখাতে ঘটে যাওয়া নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
বাইন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, হামলার সূত্রপাত হতে পারে প্রতিষ্ঠানের একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর ফলে হ্যাকাররা অর্থ উত্তোলন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
হামলার পর বাইন্যান্স অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের লোকসান নিজেদের তহবিল থেকে পূরণ করার ঘোষণা দেয়। ক্রিপ্টো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সার্কিটের প্রধান নির্বাহী হ্যারি ডনেলি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
হামলার অর্থ দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার বাইন্যান্স হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। সার্কেল ৮০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সংযুক্তি বাড়ার সময় এই ধরনের হামলা নতুন নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।