বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ক্রিপ্টো লেনদেন থেমে নেই। ২০২৫ সালের বৈশ্বিক ক্রিপ্টো অ্যাডপশন ইনডেক্সে ১৫১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনালাইসিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিপ্টো ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় ভারতের পরেই পাকিস্তানের অবস্থান রয়েছে।
চেইনালাইসিসের সূচক কোনো দেশের ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধতা বিবেচনা করে না, বরং মানুষের ক্রিপ্টো সেবায় ব্যবহার ও লেনদেনের মাত্রা বিশ্লেষণ করে। ২০২৫ সালের সূচকে খুচরা ব্যবহারকারী, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ক্রিপ্টো সেবা, ডিফাই এবং বড় প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিত্তিতে দেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনলাইনভিত্তিক কাজ, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং ডিজিটাল সম্পদের প্রতি তরুণদের আগ্রহ ক্রিপ্টো ব্যবহারের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) লেনদেনের সুযোগ থাকায় অনেক ব্যবহারকারী প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ক্রিপ্টোতে প্রবেশ করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি।
বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের বড় অংশ তরুণদের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল সম্পদের প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৩৫তম অবস্থানে ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালের সূচকে ১৩তম অবস্থানে উঠে আসে। তবে এই র্যাংকিংকে বৈধতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। ২০২৬ সালের চেইনালাইসিস প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৬তম।