জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ঢাকার উদ্দেশে টোকিও ত্যাগ করেছেন। সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই নেতা বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাপানের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন।
সফরের সময় বাংলাদেশ ও জাপান ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিলে স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের দুটি ঋণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সফরের শেষে তিনি নাগোয়া সফর করেন এবং সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের কারখানা পরিদর্শন করেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অনুষ্ঠিত হলো।