মাদারীপুর শহরের ভুঁইয়া বাড়িতে থাই গ্লাসের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে সাইম মোল্লা নামে এক কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাইম মোল্লা মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বানিয়াবহু গ্রামের সামছু মোল্লার ছেলে।
সাইম মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ বাঁশতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুঁইয়া বাড়ির দ্বিতীয় তলায় জানালাগুলো অসম্পূর্ণ ছিল। ভাড়াটে প্রকৌশলী শামীম রাজিন জানালা লাগানোর জন্য বাড়ির মালিক সাইফুল ফকিরকে জানালে তিনি অফিস ভাড়ার অগ্রিম জামানত থেকে কাজ করানোর নির্দেশ দেন।
শামীম রাজিন নিজেই শ্রমিক ঠিক করে কাজ শুরু করেন। গতকাল সকালে জানালা লাগানোর জন্য দেয়ালের অপর পাশে যাওয়ার চেষ্টা করলে সাইম একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তারা বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কি আর আমার ছেলেকে ফেরত পাব?’
ভাড়াটে প্রকৌশলী শামীম রাজিন বলেন, বাড়ির মালিক দূরে থাকেন এবং তিনি শ্রমিক ঠিক করে কাজ করাতে বলেছিলেন। তবে ঘটনার দায় বাড়ির মালিকের ওপর চাপান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক সাইফুল ফকিরের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
মাদারীপুর সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, ঘটনার পর উভয় পক্ষ বসে আপস-মীমাংসা করেছে এবং এ ঘটনায় কেউ দায়ী নন বলে তারা থানায় লিখিত দিয়েছেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিকের অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভবন নির্মাণের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ আরাফাত জামান বলেন, ভবনটির নির্মাণের অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি এবং এটি অনুমোদনহীন ভবন।