প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, "বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।"
আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাপানিসহ জার্মান, ফরাসি এবং আরও কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে।"
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।" তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ নারী হবে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে কাজ করবে।"
তিনি জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও জাপানি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে।"
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"