আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কুষ্টিয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
এই মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে অপর তিন আসামিকে, যাদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
রায়ে বলা হয়, সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধাংশ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং এই বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে একটি সভায় নিরীহ ছাত্র–জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ছাত্র জনতার ওপর গুলি চালায়, যার ফলে ছয়জন নিহত হন। এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়।
গত ২৩ এপ্রিল ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, দণ্ডিত মাহবুব উল আলম হানিফসহ এই মামলার চার আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।